ওমানের সরকারি মুদ্রার নাম হলো ওমানি রিয়াল (OMR), যা বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী মুদ্রা গুলোর মধ্যে একটি। বাংলাদেশ থেকে অনেক মানুষ ওমানে কাজ করতে যায় এবং সেখান থেকে কষ্ট করে উপার্জন করা অর্থ দেশে পাঠান। তাই ওমানে কর্মরত প্রবাসীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো ওমানের টাকার মান বা ওমান টাকার রেট কত – অর্থাৎ, ওমান ১ রিয়াল সমান বাংলাদেশী কত টাক।
আপনি যদি ওমান থেকে বাংলাদেশে টাকা পাঠানোর পরিকল্পনা করেন, তাহলে অবশ্যই জানতে হবে ওমানি ১ রিয়াল সমান বাংলাদেশে কত টাকা পাওয়া যাবে। চলুন, এই বিষয়টি বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।
Table of Contents
ওমানের টাকার মান কত | ওমান টাকার রেট
ওমানি রিয়াল ও বাংলাদেশি টাকার মান বা রেট নির্ধারিত হয় আন্তর্জাতিক বাজারের অবস্থা, মুদ্রার চাহিদা, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সামান্য পরিবর্তনও মুদ্রার মূল্যে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ওমান থেকে বাংলাদেশে টাকা পাঠানোর আগে বর্তমান ওমানের টাকার মান কত জানা অত্যন্ত জরুরি।
আশা করি আপনি এতক্ষণে বুঝতে পেরেছেন, আজকের ওমান টাকার রেট সম্পর্কে। এখন জেনে নিন, ওমানে কত ধরনের মুদ্রা ব্যবহার করা হয় অর্থাৎ ওমানি রিয়ালের ব্যাংক নোট এবং বিভিন্ন ওমানি রিয়াল সমান বাংলাদেশের কত টাকা সেই সম্পর্কে।
ওমানি রিয়ালের ব্যাংক নোট
ওমানে বিভিন্ন মূল্যমানের নোট চালু রয়েছে, যেমন:
- ১ রিয়াল – সবুজ রঙের এই নোটটিতে ওমানের জনপ্রিয় নেতা সুলতান কাবুস বিন সাঈদ-এর প্রতিকৃতি রয়েছে। পাশাপাশি এতে ঐতিহাসিক স্থাপত্যশৈলীর চিত্রও স্থান পেয়েছে, যা দেশটির সমৃদ্ধ ইতিহাসের প্রতিফলন।
- ৫ রিয়াল – নীল রঙের এই নোটটিতে সুলতান কাবুস বিন সাঈদের ছবি ছাড়াও ঐতিহ্যবাহী ওমানি নৌকা এবং মনোমুগ্ধকর জলপ্রপাতের দৃশ্য রয়েছে, যা ওমানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তুলে ধরে।
- ১০ রিয়াল – লাল রঙের এই নোটটি আরও রাজসিক, যেখানে সুলতান কাবুস বিন সাঈদ, আধুনিক স্থাপত্যের নিদর্শন এবং ঐতিহাসিক দৃশ্য চিত্রিত হয়েছে, যা ওমানের অতীত ও বর্তমানের সংযোগ প্রকাশ করে।
- ২০ রিয়াল – সবুজ ও নীল রঙের সমন্বয়ে তৈরি এই নোটটিতে সুলতান কাবুস বিন সাঈদের প্রতিকৃতির পাশাপাশি ওমানের অন্যতম বিখ্যাত স্থাপনা গ্র্যান্ড মসজিদ এবং ঐতিহ্যবাহী জাহাজের ছবি রয়েছে, যা দেশের ঐতিহ্য ও আধুনিকতার প্রতীক।
- ৫০ রিয়াল – গাঢ় লাল রঙের এই নোটটি এই দেশের সর্বোচ্চ মূল্যমানের নোট। এতে সুলতান কাবুস বিন সাঈদ, আধুনিক স্থাপত্যশিল্প এবং ঐতিহাসিক মনুমেন্ট চিত্রিত হয়েছে, যা ওমানের গৌরবময় ইতিহাস ও উন্নয়নকে তুলে ধরে।
ওমানি রিয়ালের কয়েন (বাইসা)
ওমান রিয়ালের উপ-মুদ্রা বাইসা (Baisa) নামে পরিচিত। ১০০০ বাইসা = ১ ওমানি রিয়াল।
বিভিন্ন মূল্যমানের কয়েন রয়েছে, যেমন:
- ৫ বাইসা – এটি ব্রোঞ্জ ধাতু দিয়ে তৈরি
- ১০ বাইসা – এটি ব্রোঞ্জ ধাতু দিয়ে তৈরি
- ২৫ বাইসা – এটি ব্রোঞ্জ ও নিকেল ধাতু দিয়ে তৈরি
- ৫০ বাইসা – এটি ব্রোঞ্জ ও নিকেল ধাতু দিয়ে তৈরি
- ১০০ বাইসা (০.১০ রিয়াল) – এটি ব্রোঞ্জ ও নিকেল ধাতু দিয়ে তৈরি
ওমানে সাধারণত দৈনন্দিন কেনাকাটায় ছোট মূল্যমানের কয়েনের চেয়ে নোট বেশি ব্যবহৃত হয়।
ওমানের বিভিন্ন টাকার রেট
বিভিন্ন দেশে ওমানের টাকার রেট
ওমানের টাকার মান কেমন
অনেকেই জানেন না, ওমানি রিয়ালের দাম বা মূল্য বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী মুদ্রা গুলোর মধ্যে একটি। বর্তমান সময়ে ওমানি রিয়ালের মান তুলনামূলকভাবে বেশ উঁচুতে রয়েছে এবং ধীরে ধীরে আরও বাড়ছে।
একটি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো থাকলে, সাধারণত সেই দেশের মুদ্রার মানও স্থিতিশীল থাকে বা বৃদ্ধি পায়। ওমানের অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়ায় এর মুদ্রার মূল্যও অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় বেশি। তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবর্তন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বাজারের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে মুদ্রার মান ওঠানামা করতে পারে। তাই ওমান থেকে বাংলাদেশে টাকা পাঠানোর আগে ওমান টাকার রেট সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
ওমানি রিয়ালের ইতিহাস: সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় এক যাত্রা
ওমানের মুদ্রার ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময়। বর্তমানে ওমানের সরকারি মুদ্রা হলো ওমানি রিয়াল (OMR), যা ১৯৭০ সালে প্রথম চালু করা হয়। দেশটির আধুনিক মুদ্রা ব্যবস্থার সূচনা হয় সুলতান কাবুস বিন সাঈদ-এর শাসনামলে। তাঁর নেতৃত্বে ওমান শুধু অর্থনৈতিকভাবেই এগিয়ে যায়নি, বরং মুদ্রা ব্যবস্থাতেও আনে যুগান্তকারী পরিবর্তন।
১৯৭০ সালের আগে ওমানে কী মুদ্রা ব্যবহার হতো?
ওমানের বর্তমান মুদ্রা ব্যবস্থার আগেও দেশটিতে বিভিন্ন ধরনের মুদ্রা প্রচলিত ছিল। তখন ভারতীয় রুপি, মসকাট রুপি ও মাট্রাহ রুপি ব্যবহৃত হতো। ১৯৫৯ সালে প্রথমবারের মতো ওমানি পয়সা চালু করা হয়, যা তখনকার ভারতীয় রুপির সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। তবে ১৯৭০ সালে ওমানি রিয়াল চালু হওয়ার পর পুরোনো মুদ্রাগুলো বাতিল করা হয়। নতুন মুদ্রা ব্যবস্থায় ১ ওমানি রিয়াল = ১,০০০ বাইজা নির্ধারণ করা হয়।
ওমানি রিয়ালের স্থিতিশীলতার রহস্য
ওমানি রিয়ালের মান সবসময়ই তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকে। এর অন্যতম কারণ হলো ওমানের শক্তিশালী অর্থনীতি ও তেলের বিশাল রিজার্ভ। দেশটির অর্থনীতি প্রধানত তেল রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল, যা ওমানি রিয়ালের মূল্য ধরে রাখতে সাহায্য করে।
এছাড়া, ওমান সরকার সুসংগঠিত মুদ্রানীতি ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখে। এসব নীতির ফলে ওমানি রিয়াল শুধু স্থিতিশীলই নয়, বরং বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান মুদ্রাগুলোর একটি হিসেবে স্বীকৃত।
ওমানে যারা কাজ করেন বা ব্যবসা করেন, তাদের জন্য এই মুদ্রার স্থিতিশীলতা অনেক বড় সুবিধা। তাই যদি আপনি ওমানে বসবাস করেন বা সেখানে কাজ করার পরিকল্পনা করেন, তাহলে ওমানি রিয়ালের ইতিহাস ও শক্তিশালী অবস্থান সম্পর্কে জানা আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
শেষ কথা
আশা করি এই আর্টিকেল থেকে আপনি ওমানের টাকার মান সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। ওমানের টাকার মান নিয়মিত কমে বা বৃদ্ধি পায়, তাই যদি আপনি একজন ওমান প্রবাসী হয়ে থাকেন তাহলে ওমানের টাকার মান সম্পর্কে আপনার নিয়মিত আপডেট জানা উচিৎ। আমাদের এই পোস্টে আমরা সবসময় আপডেট টাকার মান জানিয়ে থাকি, তাই আমাদের এই ওয়েবসাইটটি নোট ডাউন করে রাখতে পারেন।
আরো জানুনঃ