আমাদের টেলিগ্রাম গ্রপে যুক্ত হোন এবং সুন্দর সুন্দর বাংলা ক্যাপশন ছবি ও ভিডিও সহ ফ্রিতে দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।🔻
টেলিগ্রাম গ্রুপ লিঙ্ক

পর্তুগাল টাকার মান কত | আজকের পর্তুগাল ইউরো থেকে বাংলাদেশী টাকা রেট

আজকে আলোচনা করবো, পর্তুগাল টাকার মান কত এবং পর্তুগাল টাকার ইতিহাস সম্পর্কে। আশা করি আর্টিকেলটি সকল পর্তুগাল প্রবাসীদের জন্য উপকার হবে। বর্তমানে যারা ইউরোপে ভ্রমণ, প্রবাসী আত্মীয়কে টাকা পাঠানো এবং অনলাইন থেকে কেনাকাটার জন্য পর্তুগাল মুদ্রার রেট সম্পর্কে জানতে চান তাদের জন্য “পর্তুগাল টাকার মান কত” এই আর্টিকেলটি গুরুত্বপূর্ন।

পর্তুগাল ইউরোপের একটি আলাদা দেশ হলেও, এই দেশে মূলত ইউরো (EUR) ব্যবহার করা হয় এই মুদ্রাটি ইউরোপ ইউনিয়নের প্রধান মুদ্রা। আর আমরা জানি বাংলাদেশে ব্যবহার করা হয় বাংলাদেশী মুদ্রা (BDT) বা বাংলাদেশী টাকা (BDT)। তাই এখানে জানতে পারবে আজকের পর্তুগালের (EUR) থেকে BDT রেট সম্পর্কে।

আসুন আগে জেনে নেওয়া যাক, পর্তুগালের মুদ্রার নাম কি? এই সম্পর্কে। অনেকেই ইতিমধ্যে জেনে গেছেন পর্তুগালের মুদ্রার নাম কি সেই সম্পর্কে, যারা এখনো বুঝেন নেই তাহলে জেনে নেওয়া যাক পর্তুগালের মুদ্রার নাম সম্পর্কে।

পর্তুগালের মুদ্রার নাম কি?

পর্তুগালের মুদ্রার নাম হলো ইউরো (Euro), এর প্রতীক হলো এবং পর্তুগালের ইউরো মুদ্রার আন্তর্জাতিক কোড হলো EUR। পর্তুগাল হলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্র। তাই এই দেশটি ইউরোপজুড়ে ব্যবহৃত একক মুদ্রা ইউরো গ্রহণ করেছে।

যদিও, এই দেশে অনেক আগে অর্থাৎ ২০০২ সালের আগেই থেকেই পর্তুগিজ এসকুডো (Portuguese Escudo – PTE) নামের মুদ্রা ব্যবহার করতেন। ২০০২ সাল থেকে পর্তুগালে ইউরো চালু হয়।

বর্তমানে, পর্তুগালে বাজার সদাই, বাস ভাড়া, হোটেল বুকিং, কিংবা অনলাইন শপিং ইত্যাদি সব খানেই ইউরো মুদ্রা ব্যবহার করে।

পর্তুগাল টাকার মান কত? (১ ইউরো = কত টাকা)

আজকের পর্তুগাল ১ ইউরো বাংলাদেশের ১৪২.২৯ বাংলাদেশী টাকা এবং পর্তুগালের 100 ইউরো সমান বাংলাদেশের 14229.00 টাকা। প্রতিনিয়ত ইউরো মুদ্রার রেট পরিবর্তন হয় তাই সবসময় আপডেট থাকার চেষ্টা করুন।

পর্তুগালের মুদ্রা ইউরো (EUR) ইউরোপীয় ইউনিয়নের একক মুদ্রা হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পর্যটনে এর গ্রহণযোগ্যতা খুবই বেশি। এটি স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, এবং প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে পর্তুগালকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে রেখেছে। তাই, সঠিক এবং বর্তমান ইউরো মুদ্রার রেট সম্পর্কে জানা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

পর্তুগাল ১ টাকা বাংলাদেশের কত টাকা

বর্তমানে পর্তুগালের ১ ইউরো (EUR) সমান বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৪২.২৯ বাংলাদেশী টাকা। আন্তর্জাতিক বাজার ও বিনিময় হারের ভিত্তিতে পর্তুগাল মুদ্রার মান প্রতিদিন পরিবর্তিত হয়। মুদ্রা এক্সচেঞ্জ এর জন্য নির্ভরযোগ্য মানি এক্সচেঞ্জ বা অনলাইন রেট চেক করা উচিত।

নিচে টেবিল আকারে দেওয়া আছে, পর্তুগালের ১০০ টাকা বাংলাদেশের কত টাকা, পর্তুগালের ১ টাকা বাংলাদেশের কত টাকা বা পর্তুগালের ১ ইউরো বাংলাদেশের কত টাকা, পর্তুগালের ১০০০ ইউরো বাংলদেশের কত টাকা ইত্যাদি সম্পর্কে। এছাড়াও, আপনি যত টাকার মান বা রেট জানতে চান সেই সংখ্যাটি উপরে দেওয়া ক্যালকুলেটর এ লিখলেও এই সংখ্যার রেট বা মান জানতে পারবেন।

পর্তুগালের (EUR) থেকে BDT রেট – পর্তুগাল টাকার মান কত

    পর্তুগালে প্রচলিত কাগজের নোট ও কয়েন

    কাগজের নোট (Euro Banknotes):

    • €5 ইউরো → রঙ ধূসর (Grey)
    • €10 ইউরো → রঙ লালচে (Red)
    • €20 ইউরো → রঙ নীল (Blue)
    • €50 ইউরো → রঙ কমলা (Orange)
    • €100 ইউরো → রঙ সবুজ (Green)
    • €200 ইউরো → রঙ হলুদ-বাদামী (Yellow-brown)
    • €500 ইউরো → রঙ বেগুনি (Purple) (€500 ইউরো → রঙ বেগুনি (Purple))

    ধাতব কয়েন (Euro Coins):

    ইউরোর কয়েনগুলো দুই ধরণের মূল্যমানের মধ্যে বিভক্ত – সেন্ট এবং ইউরো:

    • ১, ২, ৫, ১০, ২০, ৫০ সেন্ট
    • €1 (১ ইউরো)
    • €2 (২ ইউরো)

    পর্তুগাল মুদ্রার রেট পরিবর্তনের কারণসমূহ

    পর্তুগালসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ ইউরোর উপর প্রভাব ফেলে। যদি রপ্তানি বেশি হয়, তাহলে বিদেশি ক্রেতারা ইউরো কেনে, এতে চাহিদা বাড়ে ও রেট বাড়ে। কিন্তু আমদানি বেশি হলে ইউরো বিক্রি করতে হয়, ফলে ইউরো মান কমে।

    যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারি বা বড় অর্থনৈতিক সংকটের মতো ঘটনা বিশ্বব্যাপী মুদ্রার মানে প্রভাব ফেলে। উদাহরণস্বরূপ, কোভিড-১৯ মহামারির সময় ইউরোর মানে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল।

    ইউরোর মান অনেক সময় অন্যান্য বড় বা দামি মুদ্রার (যেমন মার্কিন ডলার, ব্রিটিশ পাউন্ড) সঙ্গে তুলনা করে ওঠানামা করে। ডলারের মান যদি হঠাৎ বেড়ে যায়, তাহলে ইউরোর দাম আপেক্ষিকভাবে কমে যায়, এবং তার প্রভাব পড়ে ইউরো থেকে টাকা এক্সচেঞ্জ করার ক্ষেত্রে।

    রাজনৈতিক অস্থিরতা, যেমন নির্বাচন, সরকার পরিবর্তন, বা বড় ধরনের আন্দোলন ইউরোপীয় অঞ্চলজুড়ে ইউরোর উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিনিয়োগকারীরা অনিশ্চয়তার সময় নিরাপদ মুদ্রা খুঁজে নিয়ে থাকে, এর ফলে ইউরোর মান কমে যেতে পারে।

    ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরে যদি উৎপাদন, কর্মসংস্থান, এবং প্রবৃদ্ধি যদি ভালো হয়, তাহলে ইউরোর মান শক্তিশালী হয়। অন্যথায় ইউরো মান কমতে থাকে।

    ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংক (ECB) যদি সুদের হার বাড়ায়, তাহলে বিনিয়োগকারীরা ইউরোতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হয় এবং ইউরোর চাহিদা বাড়ে, ফলে রেট বেড়ে যায়। বিপরীতে, সুদের হার কমালে ইউরোর চাহিদা কমে এবং রেট ও কমে যেতে পারে।

    পর্তুগাল মুদ্রার ইতিহাস | পর্তুগাল ইউরো কিভাবে এসেছে?

    পর্তুগালের মুদ্রার ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ এবং যুগ যুগ ধরে পরিবর্তনের সাক্ষী। ইউরো চালু হওয়ার আগে পর্তুগাল তাদের নিজস্ব মুদ্রা এসকুডো (Escudo) ব্যবহার করত, যার আন্তর্জাতিক সংকেত ছিল PTE। ১৯১১ সালে রাজতন্ত্রের পতনের পর এসকুডো প্রথম চালু হয়, এবং এই মুদ্রাটি প্রায় দীর্ঘ ৯০ বছর ধরে পর্তুগালের অর্থনীতির প্রাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এই সময় পর্তুগালের বাজার, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন জীবনে এসকুডোর প্রভাব ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

    কিন্তু সময়ের সাথে সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক একীকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়। ১৯৯৯ সালে ইউরো আনুষ্ঠানিকভাবে ইলেকট্রনিক মুদ্রা হিসেবে চালু হয় এবং ২০০২ সালে এটি কাগজ ও কয়েন আকারে প্রচলিত হয়। সেই বছরই অর্থাৎ ২০০২ সালেই পর্তুগাল এসকুডো থেকে সম্পূর্ণরূপে ইউরোতে (EUR) রূপান্তরিত হয়।

    এই পরিবর্তনের ফলে পর্তুগাল বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও বেশি স্থিতিশীলতা লাভ করে এবং ইউরোপের অন্যান্য দেশের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন আরও সহজ ও সুবিধাজনক হয়ে ওঠে। বর্তমানে ইউরো শুধুমাত্র পর্তুগালের মুদ্রা নয়, বরং এটি তাদের আধুনিক অর্থনীতির একটি মজবুত ভিত্তি হিসেবে ও বিবেচিত।

    পর্তুগাল মুদ্রা (Euro) এক্সচেঞ্জ করার নিয়ম

    নিচে “পর্তুগাল মুদ্রা (Euro) এক্সচেঞ্জ করার নিয়ম” সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে ও সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা হলো:

    যখন আপনি পর্তুগাল ভ্রমণ করেন, প্রবাসী আত্মীয়ের পাঠানো টাকা গ্রহণ করেন, বা ইউরো থেকে বাংলাদেশি টাকা এক্সচেঞ্জ করতে চান—তখন ইউরো এক্সচেঞ্জ বা পরিবর্তনের নিয়ম জানা খুবই গুরুত্বপূর্ন। ইউরো এক্সচেঞ্জ করার জন্য বেশ কয়েকটি সহজ ও নির্ভরযোগ্য উপায় রয়েছে।

    • সরকারি অনুমোদিত ব্যাংক: বাংলাদেশে যেকোনো অনুমোদিত ব্যাংক বা লাইসেন্সধারী মানি এক্সচেঞ্জ অফিসে ইউরো এক্সচেঞ্জ করা যায়। ব্যাংক সাধারণত কিছুটা কম রেট দেয়, তবে নিরাপত্তার দিক থেকে এটি সবচেয়ে ভালো। অনেক সময় আপনাকে পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয়পত্র দেখাতে হতে পারে।
    • আন্তর্জাতিক ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড: আপনার কাছে যদি আন্তর্জাতিক কার্ড (যেমন VISA, Mastercard) থাকে, তাহলে এটির মাধ্যমেও ইউরো এক্সচেঞ্জ করা যেতে পারে। আপনি এটিকে এটিএম বা POS মেশিনে ব্যবহার করে ইউরো নিতে পারেন। তবে এখানে কার্ড কোম্পানি কিছু চার্জ কাটতে পারে এবং এক্সচেঞ্জ রেটও তাদের সিস্টেম অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। কিন্তু সব এটিএম বা POS মেশিনে এই সুযোগ নাও থাকতে পারে।
    • অনলাইন মানি এক্সচেঞ্জ: বর্তমানে অনেক অনলাইন সার্ভিস যেমন: TransferWise (Wise), Western Union, MoneyGram, পেপাল, ওয়েবমানি, পেওনিয়ার, বাইনান্স ইত্যাদির মাধ্যমে ইউরো পাঠানো বা গ্রহণ করা যায়। এগুলোর মাধ্যমে টাকা মোবাইলে বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যায় খুব সহজেই। তবে এসব প্ল্যাটফর্মে ট্রানজেকশন ফি ও এক্সচেঞ্জ রেট একটু আলাদা হতে পারে।

    সতর্কতা: অনলাইনে পর্তুগাল মুদ্রা (Euro) এক্সচেঞ্জ করার সময় অবশ্যই আগে পর্তুগাল মুদ্রার রেট জেনে নিবেন এবং আপনি আগে হাতে টাকা পাবেন তারপর ইউরো বা আপনার নির্দিষ্ট মুদ্রাটি সেন্ড করবেন।

    আরো পড়ুন;

    শেষ কথা

    পর্তুগালের মুদ্রা ইউরো (EUR) কেবল একটি লেনদেনের মাধ্যম নয়, এটি দেশটির অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কেরও প্রতীক। ইউরোর বর্তমান রেট, এক্সচেঞ্জ পদ্ধতি ও ইতিহাস জানলে আপনি যেমন আর্থিকভাবে সচেতন থাকবেন, তেমনি প্রবাসী জীবন, ভ্রমণ বা বৈদেশিক লেনদেনে অনেক সুবিধা পাবেন।

    আশা করি, এই আর্টিকেলটি আপনাকে পর্তুগালের মুদ্রা ইউরো (EUR) সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দিতে পেরেছে। যদি তাই হয় তাহলে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে দিন।

    রায়হান আহমেদ - আমি একজন বাংলা কনটেন্ট রাইটার, আমি বাংলা ক্যাপশন, স্টাট্যাস, উক্তি ও ইসলামিক বিষয় নিয়ে লেখালেখি করে থাকি। গত ২ বছরের বেশি সময় ধরে আমি বাংলা ভাষায় ক্যাপশন নিয়ে বিভিন্ন বিষয় লেখালেখি করে যাচ্ছি। আমার লক্ষ্য হলো নিয়মিত আপনাদের জন্য বাংলা ভাষায় সুন্দর সুন্দর বাংলা ক্যাপশন ও স্ট্যাটাস উপহার দেওয়া।

    Leave a Comment